Dean Schneider-এর অসাধারণ ক্যারিয়ার পরিবর্তন

 ফাইন্যান্সের সোনালী জগত ছেড়ে বন্যপ্রাণীর আলিঙ্গনে

ডিন স্নাইডার, একজন সুইস-জন্মগ্রহণকারী উদ্যোক্তা এবং ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশনিস্ট, যার জীবন গল্পটি যেন একটা অনুপ্রেরণামূলক সিনেমার স্ক্রিপ্ট। ১৯৯২ সালের ৩ অক্টোবর জুরিখে জন্মগ্রহণকারী ডিনের শৈশব থেকেই প্রকৃতি এবং প্রাণীদের প্রতি একটা গভীর আকর্ষণ ছিল। তার আইডল ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপার্ট স্টিভ আরউইন, যার টেলিভিশন প্রোগ্রাম দেখে ডিনের মনে বন্যপ্রাণীদের জগতের প্রতি একটা অদম্য কৌতূহল জাগ্রত হয়। বাড়িতে পোষা প্রাণীদের সাথে বড় হয়ে ওঠা এবং আরউইনের অ্যাডভেঞ্চারস দেখে তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন প্রাণীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার। কিন্তু জীবনের প্রথম দিকে, ডিন একটা ভিন্ন পথ বেছে নেন—ফাইন্যান্সের জগত।


মাত্র ২০ বছর বয়সে, ২০১২ সালের দিকে, ডিন তার নিজস্ব ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরি কোম্পানি শুরু করেন। এটি ছিল একটা ছোট স্টার্টআপ, কিন্তু তার উদ্যোগী মনোভাব এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে কোম্পানিটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২৪ বছর বয়সে, কোম্পানিতে ৪৫ জনেরও বেশি কর্মচারী ছিল, এবং ডিনের জীবন ছিল সোনালী—ফেরারি এবং মার্সেডিস গাড়ি, বিলাসবহুল জীবনযাপন। তিনি সুইজারল্যান্ডের একজন সফল ব্যাংকার এবং ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝে একটা শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করেন ডিন। অর্থ এবং সামাজিক মর্যাদা সত্ত্বেও, তার মনে একটা অস্থিরতা ছিল—এটা কি সত্যিই তার প্যাশন? এই প্রশ্নটাই তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করে।

আজ, ডিন স্নাইডার দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত তার স্যাঙ্কচুয়ারি 'হাকুনা মিপাকা ওয়েসিস'-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। এই স্যাঙ্কচুয়ারি প্রায় ৪০০ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে লায়ন, চিতাবাঘ, ক্যাপুচিন মাঙ্কি, মিরক্যাট, হায়েনা এবং বিভিন্ন রেপটাইলসহ অসংখ্য রেসকিউড প্রাণী বাস করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফলোয়ার সংখ্যা অসাধারণ—ইনস্টাগ্রামে ১১ মিলিয়নেরও বেশি, টিকটকে ১০.৫ মিলিয়ন এবং ইউটিউবে একই। কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটা সাহসী সিদ্ধান্ত—ফাইন্যান্সের নিরাপদ জগত ছেড়ে বন্যপ্রাণীর অনিশ্চিত পথে পা রাখা। এই আর্টিকেলে আমরা তার এই ট্রানজিশনের অজানা গল্প অনুসন্ধান করব, যেখানে সেল্ফ-ডিটারমিনেশন এবং প্যাশনের ভূমিকা কেন্দ্রীয়, সাথে ফাইন্যান্সিয়াল রিস্ক এবং অ্যাডাপটেশনের চ্যালেঞ্জস। আমরা তার রেসকিউড প্রাণীদের সাথে পার্সোনাল অ্যানেকডোটস যোগ করে বিজনেস লেসনসের সাথে লিঙ্ক করব, যাতে এই গল্প শুধু অনুপ্রেরণামূলক নয়, বাস্তবিক এবং শিক্ষণীয়ও হয়।

ফাইন্যান্স থেকে ফরেস্টে যাত্রা

ডিনের ক্যারিয়ার ট্রানজিশনের গল্প শুরু হয় একটা ব্যবসায়িক ট্রিপ থেকে। ২০১৫ সালের দিকে, তার ফাইন্যান্স কোম্পানির সাফল্যের শীর্ষে থাকাকালীন, ডিন দক্ষিণ আফ্রিকায় একটা বিজনেস ট্রিপে যান। সেখানে প্রথমবারের মতো তিনি একটা লায়নকে স্পর্শ করেন—একটা মুহূর্ত যা তার জীবনকে পাল্টে দেয়। "এটা একটা অবর্ণনীয় অনুভূতি ছিল," বলেন ডিন একটা ইন্টারভিউতে। "আমি জুরিখে ফিরে আসার ফ্লাইটে কাঁদতে কাঁদতে ভাবলাম, আমার শুধু একটা জীবন আছে, এবং আমি এটা এমন কিছুতে ব্যয় করতে চাই যাতে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি।" এই মুহূর্তটাই তার প্যাশনকে জাগ্রত করে। শৈশবে পোষা প্রাণীদের সাথে খেলা এবং স্টিভ আরউইনের প্রোগ্রাম দেখে যে স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল, তা আবার উদ্ভাসিত হয়।

আরো পড়ুন - Exotic Pet এর ডার্ক সাইড

দু'বছর পর, ২০১৭ সালে, ডিন তার কোম্পানি বিক্রি করে দেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যান। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তার পরিবার এবং বন্ধুরা অবাক হয়ে যান—একটা সফল বিজনেস ছেড়ে বন্যপ্রাণীর মাঝে যাওয়া? "প্রথমে তারা ভেবেছিল আমি পাগল," হাসতে হাসতে বলেন ডিন। "কিন্তু এখন, স্যাঙ্কচুয়ারির সাফল্য দেখে তারা বলে যেন তারা সবসময় সমর্থন করেছে।" এখানে সেল্ফ-ডিটারমিনেশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিন বিশ্বাস করেন যে সেল্ফ-ডিটারমিনেশন প্যাশনের উপর ভিত্তি করে। "যদি তোমার প্যাশন থাকে, তাহলে সাহস আসবে স্বাভাবিকভাবে," বলেন তিনি। তিনি তার এনার্জি এমন কিছুতে লাগাতে চেয়েছিলেন যা তার হৃদয়কে স্পর্শ করে।

হাকুনা মিপাকা ওয়েসিস প্রতিষ্ঠা করা ছিল তার ট্রানজিশনের কেন্দ্রবিন্দু। 'হাকুনা মিপাকা' সোয়াহিলি ভাষায় অর্থ 'নো লিমিটস'—যা ডিনের জীবনদর্শনকে প্রতিফলিত করে। এই স্যাঙ্কচুয়ারি রেসকিউড প্রাণীদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে কোনো সাফারি বা টুরিস্ট অ্যাক্সেস নেই, যাতে প্রাণীরা তাদের নিজস্ব বাড়িত মতো বাস করতে পারে। কিন্তু এই যাত্রায় চ্যালেঞ্জের অভাব ছিল না। ফাইন্যান্সিয়াল রিস্ক ছিল সবচেয়ে বড়। ডিনের সোশ্যাল মিডিয়া ইনকাম (ইউটিউব থেকে মাসিক কয়েক হাজার ফ্র্যাঙ্ক) স্যাঙ্কচুয়ারির খরচ মেটাতে অপর্যাপ্ত। তিনি তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ডোনেশনের উপর নির্ভর করেন, কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ডোনেশন কমে যায়, যা প্রাণীদের খাবার এবং ১৪ জন কর্মচারীর বেতনকে প্রভাবিত করে। বড় ব্র্যান্ডসের সাথে পার্টনারশিপ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন ডিন, কারণ তিনি তার মূল্যবোধ এবং মিশনকে রক্ষা করতে চান। উদাহরণস্বরূপ, তিনি এলেন ডিজেনারেসের থেকে ১০,০০০ ডলারের চেক প্রত্যাখ্যান করেন, বলেন যে ভালো কনটেন্টই ফলোয়ার বাড়ায়, না যে সেলিব্রিটি এনডর্সমেন্ট।

অ্যাডাপটেশনের চ্যালেঞ্জও ছিল প্রচণ্ড। সুইজারল্যান্ডের আরামদায়ক জীবন থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বুশে চলে আসা—যেখানে প্রতিদিন প্রাণীদের সাথে ইন্টার্যাকশনের ঝুঁকি রয়েছে। ডিন কোনো অস্ত্র বহন করেন না; তিনি প্রাইডের সদস্য হিসেবে প্রাণীদের সাথে থাকেন। "যদি তারা আক্রমণ করে, তাহলে সেটা আমার ভুল—সিগন্যাল মিস করার জন্য," বলেন তিনি। তিনি প্রাণীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শিখেছেন—শব্দ, অঙ্গভঙ্গি, চোখের দৃষ্টি। উদাহরণস্বরূপ, লায়নরা তাকে টেস্ট করে, ২০০ কেজি ওজন নিয়ে লাফ দেয়, কিন্তু ডিন তাদের সিগন্যাল দিয়ে বা হালকা ধাক্কা দিয়ে সামলান।

এখানে ইউনিক অ্যাঙ্গেল আসে—তার রেসকিউড প্রাণীদের সাথে পার্সোনাল অ্যানেকডোটস, যা বিজনেস লেসনসের সাথে লিঙ্ক করে। ডিনের স্যাঙ্কচুয়ারিতে রেপটাইলস (যেমন স্নেক) এবং অন্যান্য প্রাণী যেমন হায়েনা বা মিরক্যাট (যা জ্যাকালের মতো ছোট প্রাণী) রয়েছে। একটা অ্যানেকডোট: ডিন একটা রেসকিউড হায়েনার সাথে তার সম্পর্ককে বর্ণনা করেন যেন একটা জটিল বিজনেস টিম। "হায়েনারা লায়নদের চেয়ে বেশি সোশ্যাল—তাদের হায়ারার্কি এবং কমিউনিকেশন খুব কমপ্লেক্স," বলেন তিনি। একবার, একটা রেসকিউড হায়েনা তাকে টেস্ট করেছিল, কিন্তু ডিনের ধৈর্য এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (মাথা ঠেকিয়ে গ্রিটিং) দিয়ে সে বন্ড তৈরি করে। এটা তাকে শিখিয়েছে বিজনেস লেসন: "টিম ম্যানেজমেন্টে ধৈর্য এবং নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফাইন্যান্সে আমি টার্গেট সেট করতাম, কিন্তু এখানে প্রাণীদের সাথে, তুমি তাদের মতো হয়ে যাও— তাদের তোমার মতো বানানোর চেস্টা করো না।"

আরেকটা অ্যানেকডোট রেপটাইলস নিয়ে। স্যাঙ্কচুয়ারিতে রেসকিউড স্নেকদের সাথে ডিনের ইন্টার্যাকশন তাকে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শিখিয়েছে। "স্নেকরা অপ্রত্যাশিত—একটা ভুল সিগন্যাল এবং তুমি বিপদে," বলেন তিনি। একবার, একটা রেসকিউড স্নেককে রিহ্যাবিলিটেট করতে গিয়ে ডিনকে অ্যাডাপ্ট করতে হয়েছে নতুন এনভায়রনমেন্টে, যা তার ফাইন্যান্সিয়াল রিস্কের সাথে তুলনা করে। "বিজনেসে আমি রিস্ক ক্যালকুলেট করতাম, কিন্তু এখানে রিয়েল-টাইম অ্যাডাপটেশন—যা আমাকে আরও রেসিলিয়েন্ট বানিয়েছে।" জ্যাকাল-জাতীয় প্রাণী যেমন মিরক্যাটদের সাথে তার অ্যানেকডোটসও অনুরূপ। একটা রেসকিউড মিরক্যাটকে ওয়াইল্ডে রিলিজ করার গল্পে ডিন বলেন, "এটা বিজনেসে একটা প্রোজেক্ট রিলিজ করার মতো—তুমি প্রস্তুত করো, কিন্তু শেষমেশ তাদের সেল্ফ-ডিটারমিনেশন দাও।"

আরো পড়ুন - টপ ১০ হার্ডি ফিশ ফর বিগিনারস: সহজ কেয়ারে দীর্ঘজীবী মাছের লিস্ট!

লায়নদের সাথে তার বন্ড সবচেয়ে বিখ্যাত। যুবক লায়নদের সাথে তিনি বাবার মতো ছিলেন, এখন ভাইয়ের মতো। "তারা খেলায় ৫০% শক্তি ব্যবহার করে, নখ বের করে না," বলেন ডিন। কিন্তু ২০২০ সালে একটা কনট্রোভার্সি হয় যখন তিনি একটা লায়ন কাবকে হালকা মারেন স্ক্র্যাচ করার পর—যা তিনি ডিফেন্ড করেন বাউন্ডারি শেখানো হিসেবে। এটা তাকে শিখিয়েছে ক্রিটিকসকে ইগনোর করতে, যা বিজনেসে অপরিহার্য।

ডিন স্নাইডারের গল্প থেকে আমরা অনেক লেসন পাই, যা শুধু কনজারভেশন নয়, জীবন এবং বিজনেসের জন্যও প্রযোজ্য। প্রথমত, প্যাশনকে প্রায়োরিটাইজ করা: অর্থের পিছনে না ছুটে , হৃদয়ের কথা শোনা। "সেল্ফ-ডিটারমিনেশন প্যাশনের উপর ভিত্তি করে," বলেন ডিন। দ্বিতীয়ত, রিস্ক নেওয়া: ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি ছেড়ে অনিশ্চিত পথে যাওয়া, কিন্তু অ্যাডাপটেশনের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন। তার স্যাঙ্কচুয়ারির ফাইন্যান্সিয়াল চ্যালেঞ্জস তাকে শিখিয়েছে রেসিলিয়েন্স—যা বিজনেসে ইনভেস্টমেন্ট রিস্কের মতো।

তৃতীয়ত, অথেনটিসিটি: তার সোশ্যাল মিডিয়া সাফল্য আসে রিয়েল লাইফ শোয়িং থেকে, না যে অ্যাক্টিং থেকে। "ভালো কনটেন্ট ফলোয়ার বাড়ায়," বলেন তিনি। রেসকিউড প্রাণীদের সাথে অ্যানেকডোটস যেমন হায়েনার সোশ্যাল স্ট্রাকচার বা স্নেকের অপ্রত্যাশিততা তাকে শিখিয়েছে টিম ডায়নামিক্স এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট—যা তার ফাইন্যান্স ক্যারিয়ারের লেসনসকে ওয়াইল্ডলাইফে অ্যাপ্লাই করে। শেষমেশ, ক্রিটিকসকে ইগনোর: অনলাইন অ্যাকিউজেশনস সত্ত্বেও, তিনি তার মিশনে ফোকাস করেন—প্রাণীদের হৃদয়ে আনা।

ডিনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যিকারের সাফল্য আসে প্যাশন অনুসরণ করা থেকে। যদি আপনি আপনার জীবনে একটা পরিবর্তন চান, তাহলে তার মতো সাহসী হয়ে উঠুন। হাকুনা মিপাকা-এর মতো, জীবনেও 'নো লিমিটস'।


Sources:


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ