Turtle vs Tortoise: কচ্ছপের দুই রূপ – পার্থক্য, জীবনযাত্রা এবং আশ্চর্যজনক তথ্য

 Turtle vs Tortoise পার্থক্যা কি? 

কল্পনা করুন, আপনি একটি বনে হাঁটছেন এবং হঠাৎ একটি ধীরগতির প্রাণী দেখলেন, যার পিঠে একটি শক্ত খোলস। আপনি বললেন, "এটা তো কচ্ছপ!" কিন্তু আপনার বন্ধু বললেন, "না, এটা টরটয়েস!" এখন প্রশ্ন হলো, এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী? অনেকেই মনে করেন যে Turtle এবং Tortoise একই প্রাণী, কিন্তু বাস্তবে এরা দুটি ভিন্ন ধরনের কচ্ছপ, যাদের জীবনধারা, শারীরিক গঠন এবং অভ্যাসে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব Turtle এবং Tortoise-এর মধ্যকার পার্থক্যগুলো, তাদের জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন এবং সংরক্ষণের অবস্থা নিয়ে। এই তথ্যগুলো ১০০% অথেনটিক, বিজ্ঞানভিত্তিক সোর্স থেকে সংগৃহীত এবং আকর্ষণীয় ফ্যাক্টস যোগ করা হয়েছে। চলুন, এই রহস্যময় কচ্ছপের জগতে ডুব দেই!

Image Source

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক যে Turtle এবং Tortoise উভয়ই Testudines অর্ডারের অন্তর্ভুক্ত, যা Chelonia নামেও পরিচিত। এরা সকলেই খোলসযুক্ত সরীসৃপ, যাদের শরীর একটি শক্ত হাড়ের খোলসে আবৃত। কিন্তু সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো তাদের আবাসস্থল। Tortoise-রা সম্পূর্ণভাবে ভূমিজ প্রাণী, যখন Turtle-রা জলজ বা আধা-জলজ। এই পার্থক্যটি তাদের শারীরিক গঠন, খাদ্যাভ্যাস এবং আচরণকেও প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি কচ্ছপ দেখেন যা জলে সাঁতার কাটছে, তাহলে সম্ভবত সেটা Turtle। আর যদি সেটা মরুভূমিতে ধীরে ধীরে হাঁটছে, তাহলে Tortoise। এই সাধারণ নিয়মটি মনে রাখলে আপনি সহজেই পার্থক্য করতে পারবেন।

আরো পড়ুন - Packman Frog পালনের হিডেন ট্রিকস

এখন আসুন বিস্তারিত পার্থক্যগুলো দেখি। প্রথমে শারীরিক গঠন। Turtle-দের খোলস সাধারণত পাতলা, সমতল এবং জলধারায় সাঁতার কাটার জন্য ডিজাইন করা। এদের খোলস হালকা এবং স্ট্রিমলাইন্ড, যাতে পানি ড্র্যাগ কম হয়। উদাহরণস্বরূপ, সী Turtle এর খোলস এতটাই সমতল যে এরা সমুদ্রে দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। অন্যদিকে, Tortoise-দের খোলস গোলাকার এবং উঁচু, যা ডোমের মতো। এই গঠন তাদেরকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং পানি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে মরুভূমিতে। Tortoise-দের খোলস ভারী এবং শক্ত, যা তাদের ভূমিতে থাকার জন্য উপযুক্ত।

পা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট। Turtle-দের পা ফ্লিপারের মতো বা ওয়েবড (জালযুক্ত), যা পানিতে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। সী টার্টলের পা তো সম্পূর্ণ ফ্লিপার, যা তাদেরকে সমুদ্রে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে সাহায্য করে। কিন্তু Tortoise-দের পা হাতির পায়ের মতো স্তম্ভাকার এবং ছোট নখযুক্ত, যা ভূমিতে হাঁটার জন্য আদর্শ। এদের পায়ে কোনো জাল নেই, কারণ এরা পানিতে থাকে না। এছাড়া, Tortoise-দের পায়ের আঙ্গুলে দুটো বা তার কম ফালাঞ্জ (হাড়ের অংশ) থাকে, যা তাদেরকে শক্তিশালী করে তোলে। এই শারীরিক অভিযোজনগুলো তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, গালাপাগোস টরটয়েসের মতো বড় Tortoise-রা তাদের ভারী খোলস সত্ত্বেও ধীরে ধীরে চলতে পারে, কারণ তাদের পা শক্তিশালী।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো আবাসস্থল। Turtle-রা সাধারণত পানিতে থাকে – সমুদ্র, নদী, হ্রদ বা পুকুরে। কিছু Turtle, যেমন বক্স টার্টল, আধা-জলজ, অর্থাৎ তারা পানি এবং ভূমি উভয়েই থাকতে পারে। সী টার্টলেরা সমুদ্রে থেকে শুধু ডিম পাড়ার জন্য ভূমিতে আসে। এদের জীবনের বেশিরভাগ সময় পানিতে কাটে, যা তাদের শরীরকে জলধারায় অভিযোজিত করে। অন্যদিকে, Tortoise-রা সম্পূর্ণ ভূমিজ। এরা মরুভূমি, জঙ্গল, ঘাসভূমি বা এমনকি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান সালকাটা টরটয়েস মরুভূমিতে থেকে দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বাঁচতে পারে। Tortoise-রা পানির সাথে শুধু পানি খাওয়া বা গোসলের জন্য যুক্ত, কিন্তু তারা সাঁতার কাটতে পারে না। যদি কোনো Tortoise-কে পানিতে ফেলা হয়, তাহলে সে ডুবে যেতে পারে! এই আবাসস্থলের পার্থক্য তাদের জীবনচক্রকে প্রভাবিত করে। Turtle-রা সমুদ্রের স্রোতের সাথে ভেসে যায়, অন্যদিকে Tortoise-রা ভূমিতে গর্ত খুঁড়ে হাইবারনেট করে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে আরও পার্থক্য। Turtle-রা সাধারণত অমনিভোরাস, অর্থাৎ তারা মাংস এবং উদ্ভিদ উভয়ই খায়। সী টার্টলেরা মাছ, জেলিফিশ, শৈবাল এবং ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী খায়। কিছু Turtle, যেমন স্ন্যাপিং টার্টল ছোট পাখি বা স্তন্যপায়ীও খেতে পারে। এদের খাদ্য জলজ পরিবেশ থেকে আসে। অন্যদিকে, Tortoise-রা হার্বিভোরাস, অর্থাৎ শুধু উদ্ভিদ খায়। এরা ঘাস, ফল, ক্যাকটাস, ফুল এবং পাতা খায়। গালাপাগোস টরটয়েসেরা ক্যাকটাস খেয়ে জলের চাহিদা পূরণ করে। এই খাদ্যাভ্যাসের কারণে Tortoise-দের দাঁত নেই, কিন্তু শক্ত চোয়াল আছে যা উদ্ভিদ চিবানোর জন্য উপযুক্ত। যদি আপনি কোনো কচ্ছপকে মাংস খাওয়াতে চান এবং সে না খায়, তাহলে সম্ভবত সেটা Tortoise!

আচরণ এবং অভ্যাসের দিক থেকে দেখলে, Turtle-রা আরও অ্যাকটিভ এবং মাইগ্রেটরি। সী টার্টলেরা হাজার হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করে ডিম পাড়ার জায়গায় ফিরে আসে, যা একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। এরা পানিতে দ্রুত চলে এবং শত্রু থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে। Tortoise-রা ধীরগতির, কিন্তু ধৈর্যশীল। এরা গর্ত খুঁড়ে হাইবারনেট করে শীতকাল কাটায় এবং গরমে ছায়ায় থাকে। Tortoise-দের গতি খুব কম – প্রতি ঘণ্টায় ০.২-০.৫ কিলোমিটার – কিন্তু এরা দীর্ঘজীবী। উদাহরণস্বরূপ, জোনাথন নামের একটি Tortoise ১৯০ বছরেরও বেশি বয়সী! Turtle-রা সাধারণত ২০-৪০ বছর বাঁচে, কিন্তু কিছু প্রজাতি ১০০ বছর পর্যন্ত। এদের আচরণ পরিবেশের সাথে মিলে যায় – Turtle-রা সামাজিক নয়, কিন্তু Tortoise-রা কখনো কখনো গ্রুপে থাকে।

Image Source

প্রজননের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। Turtle-রা ডিম পাড়ার জন্য ভূমিতে আসে, কিন্তু ডিম ফুটলে বাচ্চারা নিজেরাই পানিতে চলে যায়। সী টার্টলের বাচ্চারা চাঁদের আলো অনুসরণ করে সমুদ্রে যায়। Tortoise-রা ভূমিতে গর্ত খুঁড়ে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চারা ভূমিতেই থাকে। Turtle-দের ডিমের সংখ্যা বেশি (১০০-২০০), কিন্তু বেঁচে থাকার হার কম। Tortoise-দের ডিম কম (৫-২০), কিন্তু বাচ্চারা নিরাপদ। উভয়েরই লাইফস্প্যান দীর্ঘ, কিন্তু Tortoise-রা সাধারণত লম্বা বাঁচে।

সংরক্ষণের অবস্থা নিয়ে বলতে গেলে, উভয়ই বিপন্ন। প্লাস্টিক দূষণ, হান্টিং এবং হ্যাবিট্যাট লস Turtle-দের জন্য হুমকি। Tortoise-রা পোষ্য বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। IUCN-এর তালিকায় অনেক প্রজাতি ক্রিটিক্যালি এন্ডেঞ্জার্ড। আমরা সচেতনতা বাড়িয়ে এদের রক্ষা করতে পারি।

আকর্ষণীয় তথ্য:

  • Turtle-রা নিজেদের পাছা দিয়ে শ্বাস নিতে পারে!
  • Tortoise-রা মহাকাশে গিয়েছে – রাশিয়ান মিশনে।

References:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ